মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

আজ হালিসহরে প্রসাদ কালী দেখা হলো।  দুই বছর বাদে।  মা আনন্দময়ী , সদা আনন্দময়ী , চিদা আনন্দময়ী -নৃত্য পরায়ানা। পায়ের নিচে শিব... মহাকাল তো কোথাও  দেখিনা। শব  শিব ই দেবীর বাহন  রূপে আছেন। আর মহাকালের সাথে দেবীর যে বিলাস তা তো রহস্য বিদ্যা।  তাই তাকে গুপ্ত রাখা নিয়ম।  অনধিকারী তো না জেনেই সাধনা করতে যাবে , কিন্তু না বুঝে তরবাল নিয়ে খেলতে গেলে বিপদ তো হবেই , তাই। ...এই নিয়ম করা হয়েছে। 

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

চন্ডি অনুসারে মায়ের যে নবদুর্গা রূপ আছে তাতে প্রথম হলেন - মা ব্রহ্মাণী -এর ধ্যান এ বলা হয়েছে -বন্দে বাঞ্ছিত লাভায় চন্দ্রার্ধ কৃত শেখরাম। বৃষআরুর্হাম শুলধরাম শৈলপুত্রী যসস্বিনি।- পর্বত রাজ হিমালাযের কন্যা রূপে জন্ম গ্রহণ করাই তাকে শৈলপুত্রী বলা হয়েছে। সাধক প্রথম অবস্থায় পার্থিব জগতের রূপ রস আদিতে , অর্থাত স্থুল জগতে মগ্ন হয়ে থাকে তখন মা তাকে এই জগত,প্রিয় বস্তু , প্রিয় ব্যক্তি -স্ত্রী, পুত্র কন্যা , পিতা মাতা - নানারূপে তার কামনা বাসনা পূরণ করেন , যেমন সাধারনভাবে মা কখনো ছেলেকে তার বাসনা পূরণ করেন আবার কখনো তাকে শাসন করেন -সেইরূপ। গীতা ও চন্ডি তে এইজন্য মাকে বিস্নুমায়া বা মহামায়া বলা হয়েছে। জীব চেতনা লাভ করার পর থেকেই এই মায়ের ভালবাসা অনুভব করে বলে চন্ডি তে -ইআ  দেবী  সর্বাভূতেসু চৈতন্য অভিধিয়াতে -বলার পরই  বলছেন - বিষ্ণু মায়া ইতি শব্দিত। আবার গীতা তে বলা হয়েছে - মায়া দূরতায়া -...তাই সাধক তখন মূলাধার চক্রে মন রেখে মাকে বাইরের জগতে দর্শন করেন।  তাই প্রথম দিন মা জাগতিক স্নেহ সম্পর্কে কন্যা রুপা ,ইচ্ছা পূরণের বা বাসনা পূরণের উপায়। বিশ্ব জননী কে বিশ্ব রূপে দেখায় হলো নবদুর্গার প্রথম জন শৈলপুত্রীর  পূজা।
এবারে দেখাই  যে আজকাল কত ভুল জিনিস নব দুর্গার নাম চলছে - যা আমাদের নির্বুদ্ধিতার  পরিচয়।


দেবী রুদ্রচন্ডি র পদতলে যে শিব থাকেন তিনি স্বর্ণ বর্ণ , সাদা নন.
দেবী ব্রাহ্মণী র হাতে খড়গ থাকেনা।






দেবী বর্নাত্মিকা ও দেবী নৈরাত্মা বৌদ্ধ তন্ত্রের দেবী।  এদের হিন্দু শাস্ত্রে গ্রহণ করা হইনি।

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩


যে সমস্ত সাধুরা , যে কোনো তীর্থস্থানে থাকেন তাদের সকলেই যে ভালো বা উচ্চস্তরের এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই.প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজের মানসিকতা অনুসারে সাধু বেছে নিয়ে থাকে। আর তা ছাড়া সাধুদের মধ্যেও নানা রকমের ভেদ থাকে।  কিছু থাকেন যারা রাজসিক , তারা ভালো খাওয়া দাওয়া ও জামাকাপড় পরতে ভালবাসেন , দশজন লোককে দেখাতে ভালবাসেন। কিছু সাধু তামসিক ,তারা আলস্য ভরে পরে থাকেন যা হোক কিছু  খাওয়া  পেলেই তারা সন্তুষ্ট। আর কিছু সাত্ত্বিক সাধু থাকেন যারা ইশ্বর লাভকেই সব কিছু মনে করেন। 
এই প্রসঙ্গে দুর্গাপূজার কথা আসে.- সাধু ছাড়া ও যারা গৃহী - এককথায় যারা সাধক তাদের সকলের সাধনের পথ দেখানো হলো দুর্গাপুজোর আসল উদ্দেশ্য -মাতা নবদুর্গা র নটি যে রূপ আছে তা সাধকের ক্রমোন্নতির প্রতিক। আসন্ন দুর্গাপূজার সময় এই কথা মনন করতে হবে - তারপর আমরা এর আলোচনা করব। 
দুর্গাপূজা সকলের আনন্দময় হোক, মঙ্গলময় হোক - মায়ের চরণে এই প্রাথনা।      





Add caption

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দেবী অপরাজিতা - স্থান জানা নেই। 

 ব্যাসপুর শিবমন্দির। কাশিমবাজার , মুর্শিদাবাদ।
 মুখমণ্ডল - মা মৃন্ময়ী - বিষ্ণুপুর।
বিপদনাশিনী কালী -স্থান জানা নেই। 

ত্রিপুরা সিদ্ধান্ত এর যে আলোচনা আমরা করছি সেখানে নিস্ক্রিয় শিব কে প্রকাশ বলা হয়েছে এবং সৃষ্টি শক্তি কে বিমর্ষ নাম আমরা অভিহিত করছি। এই কথাটি মাথায় রাখলে পরের আলোচনা টি বোঝার সুবিধা হবে।প্রকৃতপক্ষে প্রকাশ ও বিমর্ষ আলাদা কিছু নয় - একই তত্ত্বের দুটি দিক মাত্র। 

কালিমুর্তিতেই প্রথম এই তত্ত্বটিকে রূপ দেয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন , কালির পায়ের নিচের শব্ শিব প্রকাশের প্রতিক- মানে নিস্ক্রিয় ব্রহ্ম। লক্ষ্য করলে দেখা যায় কালির দুটি চরণ শিবের পুরুষাঙ্গ ও হৃদয এ রাখা-যা ইঙ্গিত করে সৃষ্টি তত্বের। আগে মানুষ নিজের সৃস্তিশক্তি সম্পর্কে সচেতন হয় তারপর সে সৃষ্টি কার্যে নিযুক্ত হয়, মানে আগে ভাবনার জন্ম হয় হৃদয়ে ,তারপর তা শরীরকে কর্মে নিয়োগ ক্করে। কালীর কালো বর্ণ , খোলা কেশ , খড়গ ও হস্ত ধৃত মুন্ড - এসবই  হলো অব্যক্ত চেতনার প্রতীক। আবার খড়গ , ত্রিনয়ন বরমুদ্রা - এগুলি জ্ঞানের প্রতীক। অমৃত লাভের পথে কালী হলেন ব্রহ্ম তত্ত্বের প্রথম জ্ঞান ধৃত রূপ।  তাই তন্ত্রে কালিকেই প্রথম তত্ত্বের স্থান দেওয়া হয়েছে ,আর সাধকের দিক থেকে দেখলে কালী হলেন ব্রহ্মের প্রথম সাকার  রূপ ,মানে উন্নতির সোপানে  কালী তত্ত্ব যার উপলব্ধি হয়েছে তিনি চরম তত্ত্বের সাক্ষাত লাভ করেছেন। তাই গৌড় কুলে (যাকে তন্ত্রের জন্মস্থান বলা হয়) কালী সাধনাই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। রামকৃষ্ণ দেব তাই বললেন - যাকে বেদান্তে ব্রহ্ম বলেছে ,তাকেই তন্ত্রে কালী বলা হয়েছে।  


সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

                          ত্রিপুরাসিদ্ধান্ত বিষয়ে  সামান্য আলোচনা                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                             এখানে আমরা ত্রিপুরা সিদ্ধান্ত  ও তার দর্শন নিয়ে সামান্য আলোচনা করব। অদ্বৈত বেদান্ত'র মতই তন্ত্র দর্শনের মূল কথা হলো এক পরম সত্য বিরাজমান -তাকে আমরা পরম শিব নাম দিয়েছি। যিনি নিজেকে দুভাগে বিভক্ত করেছেন -সকল ও নিস্কল। অর্থাত-অংশ সহ ও অংশ রহিত। যেমন অদ্বৈত দর্শন বলে এই জগত মায়ার প্রকাশ তেমনি তন্ত্র বলে এই জগত শক্তির প্রকাশ। কিন্তু মায়া অনির্ব্চনিয়া , আর শক্তি সগুণ শিবের সাথে সমরস। মানে একত্ব প্রাপ্ত। তাই তন্ত্র মতে জগত ও ঈশ্বর একই সত্যের প্রকাশ।  রামকৃষ্ণ দেব যেমন বললেন - বিচি , শাস ও খোলা -সবটুকু নিয়েই বেল। আরেক দিক থেকে উভয়ের তফাত আছে -বেদের মতে ব্রহ্ম অপরিবর্তনীয় -যার পরিবর্তন হয় , তা মিথ্যা।  কিন্তু তন্ত্রমতে জগত ব্রহ্মেরই আর এক রূপ - অর্থাত বিকার রহিত ব্রহ্ম  আর বিকার সহিত ব্রহ্ম -নির্বিকার ব্রহ্ম ও সবিকার ব্রহ্ম। একে তন্ত্রের ভাষায় বলা হয় প্রকাশ ও বিমর্ষ। শিব প্রকাশ -তাতে শক্তি সুপ্ত অবস্থায় থাকে ,আর শক্তি বিমর্ষ -তার দ্বারা সৃষ্টি কার্য সম্পাদিত হয়. 

বিশ্ব সৃষ্টির বিষয়ে তন্ত্র সান্খ্যদর্শনের ২৪ তত্ত্ব কে গ্রহণ করেছে আর তার সাথে যোগ করেছে আরো ১২টি তত্ত্ব। যা শৈব সিদ্ধান্ত অনুসারী,এবং এইগুলিকে ৩টি ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ক) - ৫তত্ব খ )-৭ আঙশিক শুদ্ধ , আঙশিক  অশুদ্ধ তত্ত্ব গ )-২৪ অ শুদ্ধ তত্ত্ব যা সানখ্য মতানুসারী। ১ম ভাগে রয়েছে -শিব , শক্তি, নাদ  ও বিন্দু এবং শুদ্ধ বিদ্যা। এটি তন্ত্রের নতুন ভাবনা কারণ শৈব দর্শন এ বলা হয়েছে মূল বস্তু ৪টি -শিব ,শক্তি ,সদাশিব ,ও ঈশ্বর। তন্ত্রে প্রথম দুটি কে একই বলা হয় কারণ শিব তত্ত্ব কে স্থির বা স্থাবর এবং শক্তি তত্ত্ব কে জঙ্গম বা সচল স্বরূপ পরম ব্রহ্ম রূপে স্বীকার করা হয়ে থাকে।তারপর আসে নদ ও বিন্দু।  নাদ মানে শব্দ নয় আবার ও বিন্দু মানে ফোটা বা drop নয়। নাদ মানে সৃষ্টির প্রথম স্পন্দন আর বিন্দু হলো তার প্রথম প্র্রকাশ - যখন বিশ্ব তার বাহ্যিক রূপ লাভ করতে যাচ্ছে তার আগের মুহুর্ত। . তন্ত্রে প্রায়ই একে চনক বা ছোলার  সাথে তুলনা করা হয়েছে -ছোলার  যেমন ছালের ভিতরে দুটি দানা পরস্পর সংযুক্ত হয়ে থাকে এও সেরূপ।  দুটি দানা অবস্যই শিব ও শক্তি  এবং তাদের থেকে যে চারা গাছ টি বা অন্কুর টি বের হয় তা এই প্রকাশমান বিশ্ব।  

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

 ইনি বিস্নুপুরের মা মৃন্ময়ী। মল্ল রাজাদের কুলদেবী -অতি জাগ্রত।  শ্রী রামকৃষ্ণ দেব একে লাল্ বাঁধের জলে মাথা ঘসতে মানে চুলে শ্যাম্পু করতে দেখেছিলেন। 
 ইনি কাটোয়া র খেপি মা।  ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন
 জলপাইগুড়ি র  মা ভ্রামরী। এটি ৫১ পীঠের এক পীঠ
 প্রয়াগের মা ললিতা।
বামাখেপার সমাধিমন্দির।  বলা হয় আদি তারামন্দির এখানেই ছিল। 

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বহরমপুরের মা করুণাময়ী -সবাই যাকে বিস্টুপুরের মা বলে ডাকে -বামাখ্যেপা এই মাকে দর্শন করেছিলেন।  মুর্শিদাবাদের কালিঘাট নামে এই স্থান পরিচিত।

প্রাচীন বাংলায় মানুষ এইরকম স্থান কে তীর্থ বলত। 




দেবী দুর্গার দুটি অতি প্রচলিত প্রতিমা-দেখার মত তথ্য হলো এই ধাতুময়ী প্রতিমা অন্তত ২০০ বছরের প্রাচীন। 
                  মানবজীবনের উদ্দেশ্য হল ভগবান লাভ                                                                                            প্রত্যেক মানুষ তার নিজের সন্স্কার অনুসারে নিজের জীবন কে পরিচালিত করে। তাহলেও কোন এক জন্মে তাকে ঈশ্বর লাভ করতেই হবে। তাই চেতন বা অচেতন ভাবে সে সকলের মধ্যে ভগবানকেই খুঁজে চলে। কারণ ভগবান আনন্দ স্বরূপ -তাই মানুষ তার সকল কাজেই আনন্দ খুঁজে পেতে চায়। আর তাই সে নানাভাবে নানারূপে ঈশ্বরের সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে -সে যাকে ভালবাসে তার মধ্যে ভগবানকে দেখতে পায় ,আবার ভগবানের  মধ্যে নিজের প্রিয়জনকে খুজে পায়। এখানে মায়ের  যে ছবিগুলো দেওয়া হলো সেগুলো সব ই  এই ভাবনার থেকে। 




 এই যে শেষের ছবিটি এটি প্রত্যেক প্রধান দেবতার মূল শক্তি বা স্বরূপ -আবার ব্রাহ্মণ গণ এই তিন দেবিমূর্তিতেই গায়ত্রী ধ্যান করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে  এই গায়ত্রী দেবীর ভাবনা তন্ত্র ঐতিহ্যের ফল। দক্ষিণের ব্রাহ্মণ গণ এই ধ্যান করেননা। কিনতু যারা দেবী ত্রিপুরাসুন্দরীর উপাসক তারা অনেকেই এইভাবে মাতৃসাধনা করেন।