শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

নতুন করে শ্রী শ্রী চন্ডি'র বাঙলাঅনুবাদ কবিতায় করার প্রচেষ্টা চলছে - এই তার প্রথম অংশ ,                                                                      ওম  নম চন্ডিকা                       
 স্বশিষ্য ভাগুরি কে ডাকিয়া মার্কান্ডেয় কন \ অসটম মনুর  কথা শুনো বিবরন। যে রূপে সাবর্নি মনু  দেবির কৃপায় \মন্বন্তরের অধিকারী হন এ ধরায়।
স্বারচিষ মনুর  কালে চৈত্র বংশ জাত \ সুরথ নামেতে রাজা ভুবনে বিখ্যাত। প্রজাগনে পুত্রসম কৃত পালন \যবন গনের সনে করি মহারণ।
সেই রণে পরাজিত হইয়া রাজন \আপন রাজ্য সীমায় করে আগমন। দুর্জন স্বজনগন এই অবসরে \রাজার সর্বস্ব ধন আত্মসাত করে।
ধনহীন রাজ্যাহীন নৃপতি একলে \ বনমধ্যে যায়  দুঃখে  মৃগয়ার ছলে। সেই অটবির মাঝে মেধস আশ্রম \পুষ্প পখ্খি সুশোভিত অতি মনোরম।
মহারাজে হেরি মুনি করে সমাদর \আসন অর্ঘ্য দেন অতি মনোহর।  কিছুকাল সে স্থানে থাকিয়া রাজন \বন মধ্যে ইতস্তত করেন ভ্রমণ।
অবসন্ন মনে রাজা জড়িত মায়ায় \রাজ্যের দুর্দশা ভাবি করেন হায়  হায়। .                                                                    


প্রথম ছবিটি মা চন্ডি মৃন্ময়ী মূর্তি , দ্বিতীয় টি  মা তারা নীল্ সরস্বতী , ও তৃতীয় টি হরিহর মূর্তি।

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

নবরাত্রিতে ২দিনে যার পূজা হয় তিনি হলেন দেবী ব্রহ্মাচারিনি . তার হাথে থাকে জপমালা ও কমন্ডল . শান্কারাচার্য এর মতে কোচবিহারের রাজা মীন দ্দ্বজের কন্যা মীনাক্ষী  বা পার্বতী  দীর্ঘদিন শিবের তপস্যা করেন। সেই কঠিনতম তপস্যার সময় তিনি গাছের পত্র ও আহার করতেন না তাই তার নাম হয় অপর্ণা . তারপর শিব তাকে বিবাহ করে মদ্র দেশে চলে যান , মদ্রদেশই পরে মাদ্রাজ (মদ্র দেশ >মাদ্রেশা > মাদ্রাস )নামে পরিচিত হয়. এই দেবির সাধনা করার কালে সাধকের মন স্বাধিস্থান চক্রের ওপরে ওঠে .ব্রহ্মাচারিনি  দেবির পূজা আসলে নিজের শরীর বুদ্ধির ওপরে ওঠা . দেবির আবাস নিজের হৃদয়ে অনুভব করা .  

শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৪

কমল প্রশ্ন করেছ যে শ্রীমন মধুসূদন সরস্বতী শ্রীমান দামোদর স্বরূপের শিষ্য ছিলেন কিনা . হা . নিশ্চয় .আর তার সন্ন্যাস হয়েছিল বারানসীর মহা মন্ডলেস্বার দণ্ডি স্বামী  বিশ্বেশ্বর সরস্বতীর কাছে .শ্রীমন মধুসূদন কিন্তু শ্রী রাম তীর্থ ,শ্রীপদ মাধব সরস্বতী ও বিশ্বেশ্বর সরস্বতী - তিনজনকেই গুরু হিসাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন . সম্ভবত দামোদর  স্বরূপ যে মানসিকতার মানুষ ছিলেন বা তার যা মূল্যবোধ ছিল তাতে নিজেকে গুপ্ত রাখার জন্য হয়ত তিনি নিজের নাম টি কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলেন। প্রশ্ন হতে পারে যে স্বরূপ দামোদরের কড়চা  বা কৃষ্ণদাস কবিরাজের লেখায় সেরকম আভাস নেই,সেটা হয়ত একারণে যে -কৃস্নদাসের লেখা অনেক পরের ঘটনা আর কড়চা  যেটা সেটা আদৌ দামোদর  স্বরূপের লেখা কিনা তা নিয়ে সকলের মনেই সন্দেহ আছে,
 আকাশের প্রশ্ন হলো যে নিরাকারের কি রূপ কল্পনা করা যায় ?কিনতু মানুষ তো ভাবতে ভালবাসে , আর সেই ভাবনাকে স্থুল্ রূপে দেখতে ও ভালবাসতে চাই.চিন্তা করলে দেখা যায় , মানুষ যাকেই ভালবাসে , আসলে সে নিজের ভাবনাটাকে ভালবাসে . অর্থাত , মানুষটি আসলে যেমনি হোক না কেন আমি যখন তাকে ভালবাসছি তখন আমার মনমত একটা গুনাবলীর আধার হিসাবেই সেই মানুষটাকে ভালবাসছি। ফলে যখন আমার ভাবনা অনুযায়ী মানুষটি চলতে অক্ষম হয় তখন আমাদের মনে বড় আঘাত লাগে . ভাবি আমার ভালবাসা মর্যাদা পেলনা।আসলে আমি আমার মনমত খাচায় তাকে রাখতে পারিনি . ভগবানের ক্ষেত্রেও তাই হয় .নিরাকার কে নিয়ে বেশিদিন চলা যায়না - ভাবনা থেকে বাস্তবের মাটিতে নামতে হয় তখন রূপের দরকার হয় .তাকে আমার ভালবাসা জানাতে পারি , অভিমান করতে পারি আবার সে আমার মনমত কাজ করলনা বলে তাকে অভিযোগ ও জানাতে পারি . আসলে আমরা আত্মকেন্দ্রিক বলে সবসময় প্রথমে নিজের কথায় ভাবি . তাই শাস্ত্র ও বলেছেন -সাধকানাম হিতার্থায়া ব্রহ্মন রূপকল্পনা .এই সার্থপর ভালবাসা পরে শুদ্ধ হয়ে তদিয়্তাময় ভালবাসা হয় . যেখানে আমি বা আমার ভালোমন্দ থাকে না .বাবা মা র একমাত্র ছেলে চাকরি করতে বিদেশ চলে গেলে প্রথম প্রথম তারা  আশা করেন যে ছেলে ফিরে আসবে , বাবামাকে দেখবে , তারপর আশা কমতে থাকে , তখন ভাবেন ছেলে ফোন খোজ নেই, টাকা পাঠায় এই তো অনেক , তারপর যখন বছরে একটা চিঠি কেবল আসে তখন তারা এই ভেবে সান্তনা খোজেন যে  যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক . ভগবান কে ভালবাসার সময় এই শেষের অংশ তা আলাদা হয়. কারণ তার কাছ থেকে তো আর দুরে যাওয়া যায় না .তাই সেখানে আনন্দময় অবস্থান .